Thursday, 7 July 2022

অসিত কুমার পালের তিনটি কবিতা

অসিত কুমার পালের তিনটি কবিতা --

(১) জীবনের সাথে সমঝোতা করে নিন

আপনি যদি ষাটটি বসন্ত পার করে থাকেন
তবে আপনাকে অভিনন্দন জানাই ।
আপনার পরবর্তী জীবন আনন্দেই কাটবে
বলে আমার বিশ্বাস ।

আপনার সন্তান সন্ততিদের সাথে
সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলুন  ,
বিনিময়ে তাদের থেকে কিছু পাওয়ার
আশা কখনোই রাখবেন না ।

ছোটরা আগ্রহী থাকলে তবেই কোন বিষয়ে
তাদের সুপরামর্শ দিন ,
আপনার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা লব্ধ জ্ঞান অযথা
বিতরণ করে তাদের বিরক্ত করবেন না ।

নিজের কাজ যথাসম্ভব নিজে করে নেওয়ার
অভ্যাস তৈরি করুন ,
কখনোই অন্যদের কাজে হস্তক্ষেপ করবেন না
 বা কোন বিষয়ে নাক গলাবেন না ।

যথাসম্ভব কম কথা বলার অভ্যাস তৈরি করুন,
অন্যদের কথা বোঝার চেষ্টা করুন । 
নিজের অবস্থায় খুশি থাকায় চেষ্টা করুন, 
বন্ধুদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখুন ।

 ছোটখাট  বিষয়ে অভিযোগ করবেন না
 যা পাচ্ছেন তাই নিয়ে খুশি থাকুন ,
 কে আগে  কে পরে যাবে সেটা ভুলে
একা জীবন কাটানোর অভ্যাস করুন ।

খালি হাতেই চলে যেতে হবে ,তাই
অধিকার  বজায় রাখার চেষ্টা করবেন না ।
 মনের দুঃখ বেদনা লুকিয়ে রেখে
 জীবনের সাথে সমঝোতা করে নিন ।


(২) জীবনের সত্য


সময় এগিয়ে চলেছে, কিন্তু কেমন ভাবে ?
বোঝাই গেল না অস্থির জীবন্যাত্রায়
কখন আমাদের বয়স টা বেড়ে গেল ।

কোলে পিঠে চড়া বাচ্চাগুলো কখন 
যে আমাদের কাঁধ বরাবর পৌচেছে ;
তার হিসাবই রাখা গেল না ।

ভাড়া ঘরে জীবন শুরু করে কখন 
যে নিজেদের বাড়িতে পৌঁছে গেছি  ;
সেটা বুঝতেই পারলাম না ।

সাইকেলে হাফ প্যাডেল করতে করতে 
কখন যে বাইকে সওয়ার হয়ে গেছি ;
কেই বা তার হিসাব রেখেছে ।

মা বাবার উপর নির্ভরশীল থাকতে থাকতে
কখন যে স্ত্রী সন্তানের দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছি ;
তার হিসাব রাখা বেশ কঠিন ।

সুন্দর কালো চুলে চিরুনি চালাতে চালাতে
কখন যে মাথার চুলগুলো সাদা হয়ে গেছে ;
নিজেও তার খবর রাখি নি ।

হন্যে হয়ে চাকরী খুঁজতে খুঁজতে কখন
যে অবসরের  বয়স এসে গেছে ;
তার খেয়াল রাখা হয়নি ।

বাচ্চাদের জন্য পয়সা কামাতে কামাতে
কখন সে বাচ্চারাই কামাতে শুরু করেছে ;
আজ আর তা মনে পড়ে না ।
 
বিশাল পরিবারে দাদু দিদা, কাকা পিসির
ভাই বোনের সাথে হেসে খেলে বড় হয়েছি ;
আজ  কে কোথায় , কে তার খবর রাখে ?

নিজের লোকেদের জন্য কিছু করার কথা
ভাবতে শুরু করলে শরীর সাথ দেবেনা ;
জীবনের এই সত্যটাকে ভাবতেও পারি নি ।


( ৩ ) মাদকতা


পান করার পরে পাটা টলে যায়
কিছুটা  মাতলামিও দেখা যায় ;
পানশালাতে যারা সময় কাটায়
তাদেরকেই  মদ্যপায়ী বলা যায় ।

তাদের কি এমন দুঃখকষ্ট থাকে
 কেন তারা সহজ পথে চলে না ?
 একটু মনখারাপ হলেই মদ্যপান
কেনই বা এমন মতি হয় জানিনা ।

অভ্যাসের বসেই মদ্য পান করে
বরবাদ হওয়ার পথে পা বাড়ায়;
মদ্যপান করার জন্যই যে তারা
রোজই নতুন বাহানা খুঁজে পায়  ।

দিনের বেলা হোক কিংবা রজনী
মদ্যপানের জন্য সর্বদাই তৈয়ার ;
বিয়ে হোক বা  অন্য কোন উৎসব
মদ্যপানের উপলক্ষ্য চাই কি আর ।

পানশালা হল এমন এক জায়গা
যেখানে রামও যায় রহিমও যায় ;
সেখানে জাতি ধর্ম সব একাকার
মদিরাতে সবাই তো আনন্দ পায় ।

 এক পাত্র মদিরা অমৃতের সমান
সকলেই যে মদিরা মন্ত্র জপ করে
নিজের করুন অবস্থাটা তুলে ধরে
মদ্যপানের অজুহাতটা খুঁজে মরে।

এমন মাদকাসক্ত অবস্থার মধ্যেও
মাতালরা দরকারী কাজ চালায় ;
মদিরা পান করতে করতেই তারা
জীবনের তরী ভাসিয়ে নিয়ে যায় ।

সব জ্ঞানীগুনিরা সঠিক বার্তা দেয়
জ্ঞানগর্ভ কথাও বলে থাকে সবে;
- মদিরা পান করা থেকে দূরে থাক
 পানশালার কাছ সর্বদাই দূরে রবে ।

-----------------------------------------

রচনা - অসিত কুমার পাল

অমিত চক্রবর্তীর তিনটি কবিতা

অমিত চক্রবর্তীর তিনটি কবিতা -- 

১ অসমাপিকা

কি একটা বলতে গিয়ে তুমি থেমে গেলে হঠাৎ -

অসমাপিকা ক্রিয়ার বিন্যাস এখানে

চোরি চোরি চুপকে গতিপথ, অথবা

আক্রমণ এবং দৌরাত্ম্যের ফরমান।

 
আমি বরং মনটাকে এলিয়ে দিই; হাঁটু অবধি

ভিজে চুল তোমার, সমুদ্রস্নানে উৎসাহ নেই,

এসো আমরা জলের অন্যরূপ দেখি।

ধর আমরা ঢুকছি একটা গ্রিনহাউসে,

হাইড্রোফোনিক টেকনিক, মাটি নেই কোথাও তবু

ফলন্ত গাছ, দেখো কেমন পটিয়সী ওই

লাল চেরি–টমেটোগুলি।

 
ঘোর ভাঙে আমার, এখনো থেমে আছ

তুমি ক্রিয়াপদ, অসমাপিকা এবার সমাপ্তির

দিকে এগুচ্ছে, লাল লেস মাখা বিকিনি

আবার জড়াচ্ছে গোলকধাঁধার স্মারক।


২ সেই তুলোওঠা লেপটা


“I want to be the rough clothes, you can’t sleep in”, Ada Limón

একষট্টিতে মারা যেতে চাইনা আমি, একাত্তরেও নয়
তবু শীতল হয়ে আসে গ্রন্থি
তরল মনে শুধু সতেরোর মুখ তোমার –
একটা বানানো ব্যস্ততা, চাপা টেনশ্যন,
প্রতীক্ষা বা আশার একটা বাতুল খেপামি।

 ইদানীং বাঙলা সিরিয়াল, গরম রুটি নিয়ে আছ তুমি,
জৈষ্ঠ্যে বাগানের আম – পুরোপুরি
শান্তিপূর্ণ তোমার দিনরাত, পরিস্থিতি,
তাই মুলতুবি রাখি আমার মনখারাপের সভা বা
একেলার ঝটিকা আক্রমণ
শুধু হতে চাই সেই তুলোওঠা লেপটা –

 সেই খসখসে, স্বস্তিহীন লেপ
গায়ে দিলে মনে হবে কী একটা অদ্ভুত,
কী একটা ঠিক নয়, ধুনুরী ডাকিয়ে
পেঁজা দরকার, পুনর্মার্জন,
আমি হতে চাই তোমার মনের ভেতরে
সেই তুলোওঠা লেপটা।



৩ বায়োমিমেটিক ধ্যান

আজ সকালে চকচকে সবুজ
গাছে ঘেরা পথ, হতাশার তিলমাত্র নেই
কোথাও –
নির্ভরযোগ্য নয়? ঠিকই।
একটা নাছোড়বান্দা সন্দেহ কিন্ত
ঘিরে রাখে আমাদের, এই গাছটিকে দেখো
ইতিমধ্যে পোকা ধরেছে বা
উড়ে আসা অসুখ, পাতার নীচে খসখসে
ডুমোভাব।

এইভাবেই আমরা একটা ক্রসরোডে আসি,
বিবেকদংশন উপুড়চুপুড়,
ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে
হুড়মুড়িয়ে
আনন্দ আর হতাশার উজানভাটি –

তারপর আবার ঝাঁকুনি। আবার ভুল প্রেম,
ভুল উৎকন্ঠা।

ওই গাছে তার প্রতিরোধ মাপা হবে কি? আমি ভাবতে থাকি –
তুমি পঙ্গু গাছটিকে বেড় দিচ্ছ ঘিরে,
কোলে তুলে পুন:প্রতিষ্ঠা, আর এই দু’ধারা মিলতেই
ফের অলকানন্দা, ভাগীরথী, দ্বন্দ্ব অহর্নিশ,
বন ছুঁয়ে ফের ফুটে উঠল আমাদের
শুভচিন্তা, আমাদের 
বায়োমিমেটিক ধ্যান।


***Amit Chakrabarti
Address: 200 Fourwinds Ct.
Manhattan, Kansas, 66503
USA
Phone/WhatsApp: 01-785-341-6761
FaceBook Profile:  https://www.facebook.com/amit.chakrabarti.18
20211111_193632.jpg

***কবি পরিচিতি - 
অমিত চক্রবর্তীর জন্ম সোনারপুর অঞ্চলের কোদালিয়া গ্রামে। ছাত্রাবস্থায় অনেক লেখা এবং ছাপানো কলকাতার নানান পত্রপত্রিকায়। পড়াশোনার সূত্রে আমেরিকা আসা ১৯৮২। এখন ক্যানসাস স্টেট ইউনিভারসিটি তে পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক ও প্রাক্তন কলেজ অফ আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সের ডিন । প্রকাশিত কবিতার বই দুটি - "অতসীর সংদারে এক সন্ধ্যাবেলা" (রা প্রকাশন ২০২১) ও "জলকে ছুঁয়ো না এখানে" (মিসিসিপির মেঘ প্রকাশন ২০২২)। দুটি পত্রিকার সহ সম্পাদক - উত্তর আমেরিকার নিউ জার্সি অঞ্চলের পত্রিকা "অভিব্যক্তি" এবং "উজ্জ্বল এক ঝাঁক পায়রা" কবিতা পত্রিকা।

হামিদুল ইসলামের তিনটি কবিতা

হামিদুল ইসলামের তিনটি কবিতা --
             
১ জীবন

তোমার হাতে এখনো তুলে দিই 
পুরোনো সম্পর্ক 
নাবাল ভূমিতে বৃষ্টির সুবাস। ভেজা ভেজা কৈশোর   ।।

আমরা তখনো অবুঝ 
আমরা তখনো কচি কচি সকালের রোদ্দুর    ।।

আমরা তখনো মায়া 
নিঃশব্দ প্রহর গুণি শূন‍্য প্রান্তরে 
ছায়াডোবা জলে ভাসে শাণ বাঁধানো স্বপন    ।।

চেতনার জাজিমে আঁকি প্রাচীন স্মৃতি 
আমরা তখনো মৃত‍্যু দেখি নি। দেখেছি জীবন    ।।


২ মিছিল 

আকাশে সারি সারি মেঘ 
দোঁআসলা জমিনে কার্তিক ফসলের ঘ্রাণ 
প্রতিদিন কথা সাজাই   ।।

শব্দের স্থাপত‍্যে আঁকি নস‍্যাৎ প্রহর 
সড়কের ক্ষতে মিশে যায় স্পর্ধার উদ্বাস্তু শিবির 
আমরা ইট কাঠ পাথরে জীবন কুড়োই    ।।

খাদানে ডুবছে সূর্য 
শিউলি সকাল 
আমাদের আমলকি বনে ঘুঘু ডাকা বিকেল। চেতনায় সুকান্ত    ।।

ক্ষরণের ইতিহাস পাল্টে যায়। বুকের ভেতর স্লোগান দেয় উদ্দীপ্ত মিছিল     ।।

                             
 ৩ আমার ভূবন 

কখনো এমনও হয় ভুলে যাই সব 
শিশুর মতো হাত পা ছুড়ি জলে ভাসে ভূবন    ।।

মেহেদি বাগানে সারাদিন ক্ষুধার্ত কাকের কা কা 
বুকের ভেতর পাথর 
ভেঙে পড়ে সমস্ত স্বপ্ন। শহীদের গা বেয়ে নামে চাপ চাপ প্রত‍্যয়    ।।

উঠোন জুড়ে খেজুর গাছের ছায়া 
দুচোখে কান্না। হাসনাহানা বোঝে না কষ্টের অতলান্তিক   ।।

তবু গাছেরা ঋতুমতী হয় 
বোধি লাভ করে গৌতম বুদ্ধ 
আমাদের কোঁচড়ে একুশ। হাঁটতে হাঁটতে আমরা পেরিয়ে যাচ্ছি খনিজ ভূবন। শিফন বাড়ি   ।।


***পরিচিতি--
আমি হামিদুল ইসলাম। জন্ম 1955 সালের 5 মার্চ। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার অন্তর্গত কুমারগঞ্জ ব্লকের ভোঁওর গ্রামে। শৈশব থেকেই সংসারে অভাব অনটন। ফলে মাতুলালয়ে গমন। সেখান থেকে উচ্চ মাধ্যমিক। পরে আবার বাড়িতে ফিরে আসা। মানুষের লাথিগুড়ি খেয়ে বালুরঘাট কলেজ থেকে স্নাতক ও উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর। দশমের ছাত্র থাকাকালীন স্কুল ম‍্যাগাজিনে প্রথম কবিতা প্রকাশ। পরে বিভিন্ন পত্র পত্রিকার সঙ্গে যোগাযোগ। এ যাবৎ 9 টি একক কাব‍্যগ্রন্থ। 41 টি যৌথ কাব‍্য সঙ্কলন। 4 টি একক ই কাব‍্য। আছে অপ্রকাশিত নাটক ও উপন‍্যাস। প্রাঙ্গণ সাহিত্য পত্রিকা থেকে ' সাহিত‍্য রত্ন ও কবি সাগর ' সম্মাননায় সম্মানিত। এখন যবৎ বাঁচি তবৎ লিখি। লেখা আমার নেশা।

কুটিল, কুপথ--স্নেহাশীষ মুখোপাধ্যায়

কুটিল, কুপথ--
স্নেহাশীষ মুখোপাধ্যায়


পণ্ডিতের গ্রহ থেকে আবার কান্না শুনতে পেলাম।
সর সর যারা বলছে, তারা কেউ কাঁদছে না - 
কিন্নর থেকে ভাল্লুকের মতো নামছে।
বন্ধ জানলাটা কতোক্ষণ থাকবে,
ভাবতে গিয়ে দেখি, 
বাড়ির নিচে, পাহাড়ের গায়ে
গাড়িগুলো কিভাবে যেন দাঁড়িয়ে আছে। 
সর সর করে পাথুরে ভাল্লুকগুলো, যোদ্ধা  
কিম্বা আততায়ীর মতো নামছে। 
গায়ে গায়ে ধোঁওয়া উঠছে।
সাদা ধোঁওয়ায় তাদের, রাতের রঙের মতো
কালো মনে হচ্ছে না!  

তারপর লাফ দিতে দিতে
বাসতেরি সেতুর গায়ে
একটা ভাল্লুক আছড়ে পড়লো।
তার আগে শিস উঠছিলো। 
ব্যস! সেতু শেষ। সেতু উলুঝলু হয়ে গেছে।
নিচের খাদের জলে সেতুর পাষাণ-পায়রার ডানা 
চিৎ হয়ে পড়লো। বন্ধ জানলা খুলেছো,
খুলে খুলে দেখছো, কে তুমি! 
লোভ, না কর্তব্য, নাকি কিছু করার নেই?
শিস উঠছিলো। একটা প্রাণভোমরা মুখ থেকে
যেন বের হয়ে আসছিলো। অন্য একটা ফুটেজ আরো
এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। চলন্ত গাড়ি, সালতুজ নদীর ওপর দিয়ে
মৃত্যুর নক্সী কাঁথার বিছানো ছবি দেখছি ইউটিউবে।
তখনো...সবুজ শ্যাওলার মতো...

নক্সী কাঁথার রঙ এমন না!  

দেখতে দেখতে আমার প্রাণভোমরাও বেরিয়ে আসছে।
বলছে, দ্যাখাও, কিছু দ্যাখাও! 

দেখলাম, একটা সেতু প্রায় চিৎ হয়ে পড়ে গেলো।
বাড়িতে বসে দেখলাম। 
হিমাচল থেকে প্রায় দু-হাজার কিমি
গাড়ির রাস্তায় আমি নেই, তুমি নেই, থাকতেও পারবো না।
শীত, বসন্তে এখানে এসে কেউ মৃতের শ্বাস গুণবে না!  
তোমাকে বলছি, প্রিয়তমা, এবার চুমুর খেলা দ্যাখাও!
একটানে যেন প্যারাশুটের মতো ভাসতে ভাসতে
তোমার কাছে ফিরে আসি। 

এসব কথা কে বলেছে? 
কেউ তো বলেনি! 

গাড়ির চালক বঙ্গবাসী। বয়স বিয়াল্লিশ।
রাজস্থান, নাগপুর আরো কতো কি!
কি? কি মানে কি? 
না, ভুল বলেছি। রাজ্য, কি হয় নাকি?
যাই হোক, সেখানকার লোকজনও মারা গেছে।
সরকার ক্ষতিপূরণ দেবেন।
এছাড়া, কি করবেন? ধস নামা তো আটকানো যায় না! 

তার কি প্রেমিকা থাকতে নেই? গাড়ির চালকের...  
বউ, প্রেম...! 
সাংলা-কিন্নর- রবিবার এক মহাযাত্রা। 
 
সাদা ভাল্লুক, তোমরা আর কি করে পাথর হয়ে থাকবে?
অভিশাপ হাওয়াতে মরে গেছে। এখন দিন অভিশপ্ত হয়ে উঠছে। 
পাথরে খুব ধূম লেগেছে।
পাথর মানুষের মাথা থেঁতলে দিতে দিতে এগোচ্ছে।
সেতুর মাথা, পেট, হাত, সব থেঁতলে দিয়েছে সাদা ভাল্লুকরা।
ভাল্লুকরা কাঠ খেয়ে অঙ্গারের মতো দিন উগড়ে দিলো। 
পাথর থেকে আলো বিতরণ করার কথা দেওয়া আছে না! 

তুমি এখন আমার কাঁধে একটা চুমুর ঢিবি বসিয়ে দিয়েছো সালতুজ! 
আর বলছো, কি সরাতে চায় ভাল্লুকরা?
ভাল্লুকরা কি সরাতে চাইছিলো?
এখন ইচ্ছে করছে, পাল্টা একটা চুমু খেয়ে বলি,
'বাধা'!

ঢিবিটা অনেক দূরে কারো কাঁধের ওপরে ঝুলছে। 
কাঁধ থেকে ভার নেমে গেলে,
ঢিবিটাকে মনে হবে রাধা! 
কি নিষ্ঠুর তুমি ধস, কল্পকৈলাশ, আর  
ঠাণ্ডার ভেতরে জমে থাকা
তরুণীর বেদানা-ঠোঁটের রস... 
ঠিক তোমার মতো উন্মুখ,  তিস্তা! 


যতো জন্মে পদ্য বৈষম্যের--রানা জামান

যতো জন্মে পদ্য বৈষম্যের--
রানা জামান


মূলাগ্রে চরিত্র কালো কালিলিপ্ত মরিচা গতির চাক্কা ধীরে জ্যাম
ছন্দের সাম্পানে অবুঝের দাড় দিকভ্রান্ত হয়ে অগাধ সলিলে
চন্দ্র অভিযানে কূপের বিস্তার সময় সাপের পেটে গপাগপ
কখনো সময় হীরে কখনো বা দ্রৌপদীর শাড়ি বিরক্তি চরমে
আঁকতে আঁকতে কোনো মেনালিসা হয়ে গেলে তা তো নিছক কাকতাল
কবরের রতি নিরবতা গায়ে চুলকানি জ্বালায় বিরক্তি অশেষ
নৈর্ব্যক্তিক গুঁজামিলে কুঁজো চিৎ হয়ে শুতে পারে না কখনো
ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে ছলকে যায় গ্লাসে থাকা ওয়াসার জল
কত ঝড়ে মাথাভর্তি চুল হয়ে যায় ন্যাড়া তা জানে না জ্যোতিষও
শর্ত মেনে গর্ত খুঁড়ে পানিখনি মুঠোবন্দি হলেও পা আটকা বেড়াজালে
সদানন্দ থাকে নিত্যানন্দে নন্দলালে ভর করে হয় নি বিশেষ জ্ঞানী
যুদ্ধের শরীর গড়ে বেখেয়াল আলতো হলে পঁচতে থাকে ফার্মফ্লেশ
উত্তুরের বায়ু অনেক শরীরে মৃত্যুগ্রাস ক্ষত সৃষ্টি করে জানে তা অনেকে
ষড়যন্ত্র পর্দা ছিড়ে অবয়ব পুরো ঢুকলে লাশ হাটে শিরা জুড়ে
অঢেল ঈগল গুণিতক হারে বেড়ে শুদ্ধ বুড়িগঙ্গা হয়ে যায় আবর্জনা
এই আবর্জনা মনুষ্যত্বে ঢুকে আত্মকেন্দ্রিকতা ক্ষয়ে দিচ্ছে আত্মত্যাগ
স্বার্থকাণা মানুষেরা ব্যাংক লুটে সম্পদ বানিয়ে নাক ডাকে দূর পাতায়ায়
ভেলকি লাগে তেলে মাথে জেনেও যে অধীকাংশ হয়ে যাবে ন্যাপথালিন
নির্লজ্জতা বংশীশীর্ষে চড়ে হেড়ে কণ্ঠে গেয়ে যাচ্ছে রবীন্দ্র সঙ্গীত
ক্ষোভের ভাইরাস করোনা গোত্রের না হওয়ায় নিত্য প্যাদানি প্রভুর
সূর্যের উত্তাপ শোষণ প্রচেষ্টা চিমসে করে দেহ ঠেলে দেয় গহ্বরে
ভাবনাগুলো আজ ঢোল-কলমি হয়ে হুচট খেয়ে থাকে না মুখথুবড়ে
কুজ না থেকেও সোজা হয়ে শুতে গিয়ে ভয় আকড়ে ধরে আষ্টেপৃষ্ঠে
চেয়ে দেখি পুরো সমাজের চিত্র কুজোয় সয়লাব বিষন্ন বিলাস
পদপৃষ্ঠে থেকে দ্রোহহীন চোখে প্রত্যাশায় থাকে জীবন রক্ষার্থে
জীবনের রং ফিকে আজ কর্দমাক্ত পথে হোচট খেতে খেতে নিত্য
ক্ষণস্থায়ী রংমঞ্চে আত্মকেন্দ্রিকতা জন্ম দিয়ে যাচ্ছে লোভ ও হিংস্রতা
অন্যের সম্পদ কেড়ে নিতে ছল চাতুর্যের নয়া কৌশল অসীম
রগান্তরে ঢুকে গেছে চৌর্যবৃত্তি যদিও ক্রমশ যাচ্ছে কমে খাদ্য
পেঁপেসিদ্ধ নিত্য খেলেও নেতিয়ে থাকা শিশ্ন ভার্যা স্পর্শ পেতে কুত্তা
ভায়াগ্রায় মিশে লোভ দাড়ি কমা কাটে ক্ষমতার ক্ষুর দিয়ে দিবারাত্রি
পদভারে পিষ্ট জনতার ঘৃণা ফেভিকলে আটকে রাখে বাক্সবন্দি
নির্বাচন কালে অর্থের তরঙ্গে বাক্সবন্দি ঘৃণা থাকে পজেটিভ
এভাবেই বেড়ে সাপের লেজুড় ঘেরাটোপে নিয়ে যাচ্ছে চন্দ্রসূর্য
ক্ষমতার জালে থেকে হবুমন্ত্রী নিদ্রায় নিমগ্ন ভাগাভাগি গ্রেপ্তে পাবার নিশ্চিতে
ক্ষমতার অন্য প্রাপ্তি বৈষয়িক প্রসার ব্যবসায় অফুরান ঋণ
ঋণে ভারাক্রান্ত হলেও মাফের ট্রেন খাড়া থাকে দোড় গোড়ায় প্রস্তুত
আলোচনা কিংবা দ্রোহের কবিতা অথবা ছড়ার থাপ্পড়
শেয়ালের মতো মল ত্যাগ করে ফের খেতে থাকে গাব
বালিতে ডুবিয়ে মুখ ভেবে থাকে হচ্ছে না প্রলয়
ধুকতে ধুকতে শুঁকতে শুঁকতে নেড়ি কুত্তা দৌড়ে থাকে আমরণ
বাঁক বদলের নয়া মোড়ে কাক না কোকিল আসে না তো কল্পনায়
চড়কা নিজ হাতে থাকলে পছন্দের শাড়ি গড়া বেশ আরামের
শাড়ি গড়ি নানা রঙের ঢঙও থাকুক বিচিন্তা জুড়ে আদিগন্ত
ভূতের নিশানা থেকে সারটুকু নিংড়ে নয়া পথ রচনায় থাক দৃঢ় বজ্রমুঠো
দানবের দাঁত যতই সূচালো হোক না কেনো তা ভাঙ্গে বজ্রকিলে
মূলত্রের থুতনি গোল কিংবা ভাঁজ অর্থহীন যদি থাকে ভাংগা চুড়া
ঘুড়ি কৌশলের প্যাঁচ ছেড়ে গেলে ভোকাট্টা ক্ষণিকে রেখে আফসোসটা
সাপের পাঁচ পা যতই যাক না দেখা তদন্তের গেরো ঢিলা থাকলে লবডঙ্কা
স্বজনপোষণ নীতি দাঁড়িপাল্লা কাত রাখে সব দণ্ডধারী
বঞ্চনার তীর সর্বকালে করছে এফোঁড়ওফোঁড় খরগোশের বুক
কেউ প্রতিবাদ জানালে খড়গ নেমে আসে উল্টো বিভিন্ন রকমে
বিচারের বাণী নিভৃতে অনাদিকাল থেকে কাঁদছে এই বঙ্গভূমে
যে যায় লঙ্কায় সে রাবন হয়ে মেতে থাকে সীতা হরণে কেবল
চারিদিকে এক দূর্ভেদ্য প্রাচির গড়ে মোসাহেব রাখে দেহ ঘিরে
কবিতায় গল্পে এতো প্রতিবাদ কোনো অনুষ্ঠানে পাঠে সীমাবদ্ধ
চেহারা দর্শনে আয়না উপকারী ভেঙ্গে গেলে মূল্যহীন হয়ে ভয়ানক তীক্ষ্ণ
সাম্যবাদে তত্ত্ববন্দি থেকে পুঁজিবাদে বৈষম্যের ঘোড়া বাড়ন্ত সংখ্যায়
যতো পদ্য জন্মে বৈষম্যের ততো হাত চালু থাকলে আর্তনাদ কমে যেতো আর্যকালে।


***লেখক পরিচিতি

মোঃ সামছুজ্জামান ভূইয়া অতিরিক্ত সচিব হিসেবে ২০১৯-এ অবসরে গিয়েছেন। রানা জামান নামে লেখালেখি করছেন। প্রথম কবিতার বই-এর প্রকাশ ১৯৯৯ খৃস্টাব্দে। এ পর্যন্ত ৯৬টি বই বিভিন্ন প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়েছে।

নিজ জেলা: কিশোরগঞ্জ, বাংলাদেশ।

লেখকের উল্লেখযোগ্য বই:

ক) ছোটগল্প: ক্রীড়নক, পুষি বেড়ালের বিদ্রোহ,

খ) অণুগল্প: অল্প কথার গল্প-১ ও ২

গ) কাব্য: তোমার নয়ন কাকচক্ষু জল(সনেট),

ঘ)উপন্যাস:বৃক্ষমানব; রোবো সক্রেটিস,

ঙ) ছড়া: ছোটদের-আগডুম বাগডুম, জল পড়ে পাতা নড়ে, ইত্যাদি; বড়দের-ছায়া চুষে কায়া, একান্ত শিশিরগুলো,

চ) মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক: ছোটগল্প-একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের গল্প

উপন্যাস-গেরিলা, উত্তাল একাত্তর, মুক্তিযোদ্ধারা কখনো হারে না,

ছ) ছোটদের বই: ভূতের কাণ্ডকারখানা, পোড়োবাড়ির ভূত,

জ) ইংরেজি: Lost Love Twinkle Rhymes।




তুষার ভট্টাচার্য্যর তিনটি কবিতা

তুষার ভট্টাচার্য্যর তিনটি কবিতা --
     
         ১ ভালবাসার জানালা 
--------------------------------------------------------

এই বসন্তে গন্ধরাজ, মাধবীলতার মন মাতানো গন্ধ নিয়ে
 সূর্যাস্তের অন্ধকারে
যে নীরবে উঠে আসে নিরালা  দুয়ারে
তার প্রতি পুষে রাখিনা কোনও ঘৃণা,
অভিমান ;
 এক মুহূর্তে তার জন্য  খুলে দিই পড়ন্ত  রোদ্দুরে ভিজে যাওয়া
রক্তিম ভালবাসার জানালা  কপাট  l


               ২ বর্ষার বিষণ্ণ চাঁদ
---------------------------------------------------------

বর্ষার বিষণ্ণ চাঁদ চুপি চুপি জানালায় উড়ে এলে
ভাঙা বুকের পাঁজরে বেজে ওঠে শুধু
ব্যর্থতার নাম গান ;
আর তখনই আমি মনের দর্পণে তুলে আনি ভোরের কৈশোর,
আকাশ বাড়িতে তাকিয়ে দেখি মেঘের তুলিতে আঁকা শ্যামলা
 লাজুক কিশোরীর  টলটলে মায়াবী মুখ l


                ৩ সুরের সাম্পান
-------------------------------------------------------

কোনও গোপন  অভিমান নয়
 ভ্রু-পল্লবে প্রশ্ন চিহ্ন নয়
আজ অমল ধবল জোছনা রাত্তিরে
আবিল হৃদয় জুড়ে
জেগে উঠছে শুধু নদীর কলকল
ঢেউয়ের মতন ভালবাসার
সুরের সাম্পান l

চঞ্চল সেখের দুটি কবিতা

চঞ্চল সেখের দুটি কবিতা --

১ ওরা করা

কত সুখ কত দুঃখ কষ্ট বেদনার আর্তনাত অবিরল হৃদয়ে তাদের,
ওরা কারা?
যারা জীবিকার জন্যে বাইরে থাকে(কেরালা মুম্বায় দিল্লি ও অন্নান্য দেশ বিদেশে),,জন্মভূমি ছেড়ে৷
এখানে শুধু কেরালার কথাটায় বলি,
এটা কবিতা নয়! বিরহের  অক্লান্ত শ্রম প্রয়াসের অশ্রুভাষা,,,,
দরিদ্র সভাবী নয় অভাবী শ্রমিক শ্রেনীর কথা,
ওরা কারা?
এরা বাইরে যখন আসে ,মায়ের চোখ ভেজা কান্না,
পিতার বুকফাটা বেদনা,,তার উপর কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা, 
 বিরহিণীর বুকভরা বুবাকান্না বউটার দিকে চোখ রাখা যায়না,
মায়ের কোলে ছেলেটি আঙুল চেপে ধরে ,
,,আঙুলটা ছারিয়ে চেপে ধরি ছোট টিকিট লম্বা রেলগাড়িটার ডাণ্ডি৷
ওরা কারা?
তিনদিনের রাস্তা চালু টিকিটের লাইন বড় লম্বা ভিড়ে ঠেলাঠেলি পটল মূলোর ঝাকা সম,
রেজাভভিষান মেলে কখনও দুঃসাধ্যে৷
ওরা কারা?
তারপর তিনদিন পর পৌছায় কেরালায়,
শুখনো ম্লান মুখ তার উপর কাজ জুটবেকি তার দুঃচিন্তায় মগ্ন, মনে ইশ্বরের আরাধোনা ,
এসেছি ভবিশ্য উদ্দেশ্য নিয়ে অথবা ৠনের বোঝা মাথায় নিয়ে৷
ওরা কারা?
আগেরমত কাজের বাজার ভাল নয়,(ডালের থেকে বাঁদর বেশি হলে যা হয়)মুজুরি যা হয় হোক অল্প মালিয়াম শব্দে  বস পানি উণ্ডো(কাজ আছে)৷
ওরা কারা?
তার পর হাড় ভাঙা অকান্ত প্ররীশ্রম যতদিন থাকবে,
তাও আবার কাজ হলে হয়৷
ওরা কারা?
'বাংলার মা মাটি মানুষ ,মমতা তুমি কতটা জান এদের কথা,এদের হৃদয়ের ব্যথা,দরিদ্রের ক্ষুধা জালা৷
ওরা কারা?
বাংলার জননী তুমি খবর রেখছ সরকারী কর্মীদের ,
বেতন বারালে পূজোয় দিচ্ছ বোনান মাস গেলেয় মায়নি,
হিংসে নেই তাতে,যত দুঃখ গরীব চাষী অভাবি মানুষের৷
ওরা কারা?
কলকাতাকে আধুনিক উন্নত শহর বানানোর  প্রতীশ্রুতির ভাষন দিচ্চ সমীরন বার্তায়,
 বেকার যাযাবরেরমত জীবন খবর কে নেবে ৷
ওরা কারা?
 তাদের হৃদয়ের বিরহ বার্তা কে করিবে নিবেদন
ওগো বঙ্গবাসি শ্রেষ্ঠ কবিতা আবৃত্ত কারীরা ,
যেমন 
ব্রততী, বিশাখা,মৌসুমি,মলয়  পৌচ্ছেদাও তোমাদের শুললীত কষ্ঠে আবৃত্তের কোন বৈশাখী অধিবেশনে৷ 
বাইরে থাকা অভাবি শ্রমজীবিদের পাশে এসে কে দাঁড়াবে, সেই বাউল কে গাবে বঙ্গের মঞ্চে মঞ্চে৷ এরা কারা?
এদের মধ্যে আমিও এক অসহায় পথিক৷ 
ওরা কারা?
ওরা কারা?.....


২ শুধু কবিতার জন্য ঋণী 

কবিতার জন্য পৃথিবীর কাছে বড় ঋণী
বাস্তবের বাস্তবায়ন যা শিখিয়েছে সেটা বড় কঠিন৷
ভেবে ছিলাম কিছু কবিতার জন্ম দেবো এবার সংসারের গণ্ডি পেরিয়ে ,

কিন্তু সে সংসার পথের পাঁচালি হতে সময় লাগবেনা সেটাও আমি জানি৷
এই বিশাল পৃথিবীকে জানার ইচ্ছা ছিল
সময় হয়ে ওঠেনি
কিছু কবিতা পূর্ণতা পেলনা 
 সংসার সংবিধান মাঝে মধ্যে ভয় দেখালেও 
স্বপ্নটাকে কেড়ে নেয়নি ৷
গৃহে মোর প্রত্যহ মহোৎসব শুরু হয় ছোট্ট ছেলে মেয়েদের কলতানে ৷
যা শিশুদের  নবজাত নবকল্লোলে সৃষ্টি হয় অনবদ্য কবিতা৷
যা বাস্তবের সস্তা হাটে অমূল্য
শুধু কবিতার জন্য আমি এদের কাছে বড় ঋণী

দর্পণা গঙ্গোপাধ্যায়ের গুচ্ছ কবিতা --

দর্পণা গঙ্গোপাধ্যায়ের গুচ্ছ কবিতা -- চেনা চেনা চেনা মুখ আসে কালো মেঘের গায় অচেনা মানুষের ভিড়ে হারিয়ে খুঁজি তায় স্বার্থপরতা ব...