Wednesday, 6 July 2022

সুশান্ত সেনের গুচ্ছ কবিতা

সুশান্ত সেনের গুচ্ছ কবিতা -- 

   তুমি

তোমাকে নতুন করে বুঝলাম
তুমি হাতের একটা চূড়ি খুললে ,
বাড়িয়ে দিলে পরী'র মা ' র হতে
মুছিয়ে দিলে চোখের জল , তোমার আঁচলে।
আমি দরজার ফাঁক থেকে
তোমায় দেখছিলাম।
তুমি জানতে পারো নি।


২. দিন

দিন গুলো কে বড় ভয়
কখন টেলিফোন বেজে উঠবে
কেউ না কেউ বলে উঠবে
' কি রে , খবর টা পেয়েছিস । '
আর আমার বুকটা ধড়াস ধড়াস করে উঠবে।এখন জানলাম 
রাত্রেও টেলিফোনটা বাজতে পারে।

৩. আশা

আশা করে থাকি সুদিন আসবে
বাতাসে লাশের গন্ধ ভেসে আসবে না
খাবি খেতে খেতে খাবি খেতে খেতে
ভুস করে পুকুর পাড়ে ভেসে উঠব।
তুমি হাত বাড়িয়ে 
আমাকে টেনে তুলবে।


৪.  যন্ত্রনা

পাতা ঝরে পড়লে
গাছ কি কাঁদে ?
তার কি যন্ত্রনা হয় ? 
পাতা ঝরে পড়লে ।
ছেনোর মা যে আছুলি বিছুলী কাঁদছে
গাছ কি জানে ?



চিঠি--অমিত দত্ত

চিঠি
অমিত দত্ত

 
শুধু দু-মুঠো ভাত আমি বেশি চেয়েছিলাম বাবা।

শাড়িটা খুব ছিঁড়ে গিয়েছিল

তাই খুব আস্তে করে, নিজের কানেও ধরা দেয়নি

এমনি স্বরে একটি শাড়ি চেয়েছিলাম।

যে বইটা এনে দিয়েছিলে, তার অনেকগুলো পাতা ছিল না।

কী করব বল, পড়তে যে খুব ভালবাসতাম।

একটা পুরানো কিন্তু আস্ত বইয়ের আবদার করেছিলাম।

জানি, শীতের রাত খুব দীর্ঘ হয়,

তবু ছেঁড়া কাঁথা সেলাই করেও একটু উষ্ণতা চেয়েছিলাম,

আত্মজনের উষ্ণতা।

খুব বেশি কিছু চেয়েছিলাম?

জানি, প্রতি রাতে বিল্লুর ঠেক থেকে

টলমল শরীর যখন আমার অভাগা মায়ের শরীর খোঁজে

খুব বেশি তখন তোমার হাতে থাকে না।

ভেব না বাবা, আমি আর তোমায় জ্বালাব না।

আমি খুব ভাল আছি।

আমার এখন ভরা পেট, রকমারি শাড়ি,

ডিজাইনার গয়না, সুগন্ধে মাতানো দেহ।

টাকাগুলো পেয়ে অনেক সুবিধা হয়েছে বলো?

টালিগুলো সারিয়ে ফেল, মায়ের কাশির ওষুধটা

এবার কেনো। অনেকদিন তো কেনা হয়নি।

বিল্লুকে একটা সাইকেল কিনে দিয়ো আর…

পার তো ওইসব ছাইপাঁশ আর খেয়ো না।

তোমার মেয়ে খুব ভাল আছে, ভেবো না।

তুমি তো ভালই চেয়েছিলে? তাই না?

 
 
***লেখক পরিচিতি  ঃ লেখক অমিত দত্ত উত্তর চব্বিশ পরগনা নিবাসী। উনি পেশায় শিক্ষক। দীর্ঘকাল উনি লেখালাখির সাথে যুক্ত। অনেক বছর ধরেই বহু পত্র পত্রিকায় ওনার লেখা নিয়মিত ভাবে প্রকাশিত হয়ে আসছে। অনলাইন এবং প্রিন্টেড, উভয় প্রকার পত্রিকাতেই লেখক অমিত দত্তের গল্প, কবিতা, অণুগল্প প্রকাশিত হয়েছে এবং হচ্ছে। বাংলাদেশেও ওনার লেখা বেশ কয়েকবার প্রকাশিত হয়েছে। ‘ভবিষ্যৎ’, ‘মহুয়া’, ‘সাম্য’, ‘এবং বৃত্তের বাইরে’, ‘বর্ণালোক’, ‘শব্দসাঁকো’ ইত্যাদি বহু পত্রিকায় ওনার লেখা নিয়মিত প্রকাশ হয়ে আসছে। বিভিন্ন প্রতিযোগিতাতেও ওনার লেখা স্থান করে নিয়েছে। বেশ কিছু সাহিত্য সম্মানও লেখক লাভ করেছেন এ পর্যন্ত।

গরমিল হিসাব --গৌর গোপাল পাল


গরমিল হিসাব
গৌর গোপাল পাল


আসা-যাওয়ার খবর বলো
ক'জন রাখে মনে!
কেই বা আসে কে চলে যায়
ক'জন সেটা জানে!!
এই হিসেব তো অনেক হলো
তোমার আমার সনে!
এখন কিছু করো উপায়
সবাই যেটা মানে!!

নতুন একটা নিয়ম যদি
করতে পারো তুমি!
ধন্য বলবে সবাই জানি
কেউ মানি না মানি!!
ভাবছি বসে সেই অবধি
পাই না ভেবে ভূমি!
সবাই করছে কানাকানি
আমিই না তা জানি!!

কতই এলো কতই গেল
এই জীবনে হায়!
আমি এখন একলা বসে
হিসেব করি তার!!
কে কি দিলো কে কি পেলো
কেউ কি জানো তায়!
লোহার সে জং তুললে ঘসে
রয় কি কিছু আর!!

জীবন খেয়া এমনি ভাবে
সমান বয়ে চলে!
সবাই জানি তাও না মানি
অহংকারের বশে!!
শেষ জীবনে কে কি পাবে
ভেসে চোখের জলে!
ঘোচে কি তার মনের গ্লানি
কোনই হিসেব কষে!!


***কবি পরিচিতিঃ- কবি গৌর গোপাল পাল। জন্ম ১৩৬০ সালের ১৩ ফাল্গুন।পিতা- দুকড়ি পাল। মাতা- ফুলেশ্বরী পাল। জন্ম- পৈতৃক ভিটা গোবিন্দপুর গ্রাম। বর্তমানে বাকুল গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। সাহিত্যের সব শাখাতেই সমান বিচরণ। কবিতা,গান,ছড়া,গল্প,নিবন্ধ,প্রবন্ধ পত্র-সাহিত্য
সব কিছুতেই আছেন। দেশ-বিদেশ মিলিয়ে পাঁচ শতাধিক পত্র-পত্রিকার পাশাপাশি অনলাইনের শ'দুয়েক পত্র-পত্রিকাতেও লেখা প্রকাশিত হয়েছে। আকাশবাণীর গীতিকার। প্রকাশিত গ্রন্থও রয়েছে। রয়েছে বিভিন্ন শিল্পীর কণ্ঠে গাওয়া গানের ক্যাসেট/রেকর্ডও। আনন্দবাজার,বর্তমান,একদিন,প্রতিদিন সহ কুড়ি/পঁচিশটি দৈনিকের পাশাপাশি দেশ, সানন্দা,আনন্দলোক, সুখীগৃহকোণ, সাপ্তাহিক বর্তমান, কিশোর ভারতী, জ্ঞান-বিজ্ঞাান, প্রসাদ,
তথ্যকেন্দ্রসহ প্রথম শ্রেণীর শ'দেড়েক পত্র-পত্রিকাতেও লেখা প্রকাশিত।ভারত,ইংল্যাণ্ড, আমেরিকা, বাংলাদেশ, সৌদি আরব, ফ্রান্স,কানাডা প্রভৃতি দেশ থেকেও অনলাইন লেখা নিয়মিত প্রকাশ পাচ্ছে। অনেক প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠত্বের সম্মানের পাশাপাশি ছোট-খাটো অনেক পুরস্কারও রয়েছে।

সান্ত্বনা চ্যাটার্জীর তিনটি কবিতা

সান্ত্বনা চ্যাটার্জীর তিনটি কবিতা --

)অসীমের মাঝে পেয়েছি তোমায়


তোমাকে চেয়েছি জীবন জুরে শরীরের মাঝে 

অসীমে ছড়ানো ভালোবাসায় ।

এত শক্তি কি ধরি আমি 

ভাবিনি তা ,

 অহংকারে অবুঝ অজ্ঞানী,

শেষের শুরুতে দুঃখের অশ্রুপাতে শিক্ত করে

তুমি বোঝালে আমায়;

অনন্ত অসীমে আছ তুমি প্রেমের আলো হয়ে

শরীরের মাঝে যাকে আমরা নিয়ত হারাই।


কত ভাগ্য করে এসেছি জগতে 

যা চেয়েছি জীবন জুরে

যা পাইনি চোখের জলে ভেসে

শেষের দৃষ্টিতে সেই প্রেম

দেখা দিল যাবার আগে অন্তর ভরিয়ে ভালোবেসে।



)শেষের শুরু



ভাবিনি কখনো ফিরে পাব প্রেম 

জীবনের শেষ বাঁকে এসে।


মৃত্যুর   বেশে এসে ,

ভাসিয়ে চোখের জলে,

সকল  শক্তি তুমি কেড়ে নিলে একে একে।

ফিরে দিলে সে মধুর প্রেম দুজনার চোখে

রামধনু এঁকে।

হয় কি এমন চমৎকার ,

না যদি থাকো তুমি জীবন-মরন জুরে

একই পারাবারে ।

যে প্রেম ছিল চোখে

মিলনের শুভ ক্ষণে

প্রাণ মন জুরে;

যাকে হারালাম দুজনেই 

শরীরের খোঁজে আর বিষয়ের বিষে,

ভাবিনি তা ফিরে পাব

এসে বিদায় বেলায়

দুজনার বুকে।



৩)আমার শপথ 


তোমার শেষ বিদায়ের দৃষ্টি।।

গেঁথে গেছে বুকে মুক্তর  মালা।

মনে রাখিনি চোখে ধরিনি,

সকাল বিকেল সন্ধ্যার আলো,

যেখানে প্রেম অপ্রেম শরীর জাগানো খেলা।

রাতের শেষে ঘুম ভাঙানিয়া ভোরে,

চিরবিদায়ের বেলা,

যে মায়া জরানো দৃস্টি

প্রাণের গভীরে ঝরাল বৃষ্টি !

তাকে পাশে রেখে পাড় হয়ে যাব পথ,

আমার শপথ। 



ভারতবর্ষ--নিমাই চন্দ্র দে

ভারতবর্ষ--
নিমাই চন্দ্র দে 

ভারতবর্ষ  আমার  জন্মভূমি 
গরীয়ান আমি তোমার চরণ চুমি। 
বিশ্ব মাঝারে চির ভাষ্মর তুমি - 
মাটি তোমার স্বর্গের চেয়েও দামী। 

এলো লুঠেরা হূণ - পাঠান-মোঘল
মামুদ - নাদীর - ইংরাজ দল বল ।
অসুর সেনানি উড়িয়ে বিজয় কেতন
ইন্দ্র -পুরীতে চালাল তাদের শাসন ! 

রানীমা আমার লাঞ্ছিতা ভিখারিনী 
শোষন তোষন চালাল বিকিকিনি ।
দু-শো বছর অত্যাচার আর হয়রানি, 
কত শহীদদের রক্তে স্বাধীন হল জানি। 

এবার মায়ের ঘুচবে দৈন্য দশা
সাধারণের কতই-না আশা ভরসা। 
সকল আশায় জল ঢেলে দিয়ে 
দু-ভাগ দেশ শান্তি কিনতে গিয়ে। 

শান্তির মূল্য এখনও রয়েছে বাকী 
গোলা-গুলিতে সীমান্ত তার সাক্ষী। 
ভূ-স্বর্গে দখল চাইছে দৈত্য শক্তি 
কুর্নিশ জোয়ান অটুট মাতৃভক্তি।

স্বাধীন দেশের আভ্যন্তরীণ চিত্র 
অবহেলায় শিক্ষা-স্বাস্থ্য নানা ক্ষেত্র। 
রক্ষক হয়েছে ভক্ষক, বারে বারে 
টু-জি স্পেকট্রাম, হাওলা-গাওলা করে। 

আইন-কানুনের ফোকর - কানা গলে
বিজয়মাল্য - নীরভ মোদীরা চলে। 
স্মাগলিং আর নারী পাচার চক্র 
আন্তর্জাতিক চোরা- চালান সক্রিয় । 

মুম্বাই - দুবাই হয়ে আরব দুনিয়ায়
দিচ্ছে পাড়ি ডন আর মাফিয়ায় । 
সন্ত্রাসবাদীর অবাধ যাতায়াত 
জঙ্গি গোষ্ঠী দিচ্ছে মদত সাথ । 

রাজনীতি চলে ধর্মে ও জাতপাতে
খুন-ধর্ষণ চলেছে দিনে রাতে । 
আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিপন্ন 
ধর্মে-বর্ণে হানাহানি আসন্ন ।

যুব-মেধা রাজনীতিতে শূন্য - 
বিদেশে তারা হয়েছে আজ পণ্য। 
দুর্দিনে আজ বিশ্ব বিবেক চাই 
ধ্বণিত কণ্ঠে :'ভারতবাসী আমার ভাই'! 

হয়তো সুভাষ আসবে টগ-বগিয়ে
হাজার জনতা এখনও তো পথ চেয়ে। 
প্রকৃত স্বাধীনতা পাবে আমার দেশ
শোষন, লুণ্ঠণ  চিরতরে  হবে  শেষ   ! 
                  *********


***লেখক পরিচিতি : নিমাই চন্দ্র দে বিশিষ্ট শিক্ষক, সঞ্চালক ও কবি। জন্ম  ১৯৭২সালের ১লা জানুয়ারি অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার দাঁতন থানার অন্তর্গত সোলপাট্টা গ্রামে। পিতা - ঁঁনির্মল কুমার দে মাতা-সুভাষিনী দেবী।১৯৯৮ সালে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এম.এ.পাশ করে ২০০০ সালে শিক্ষকতার কাজে যোগদান করেন। আজীবন শিক্ষকতার সঙ্গে সঙ্গে সাহিত্যের একনিষ্ঠ সেবক হিসেবে কবিতা প্রবন্ধ ও সমসাময়িক বিষয়ে নানান লেখা বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। 


আনন্দ আলো--তূয়া নূর

আনন্দ আলো--
তূয়া নূর

যখন তুমি বলো ‘ভালোবাসি তোমাকে’
তখন মনের অন্দরমহল ভরে আনন্দের ছটায়।
ভাবছো, মনের আবার অন্দরমহল!
গৃহস্থ বাড়ির অন্দরমহল ঘেরা থাকতো পাঁচিল দিয়ে
খিড়কি আটা দরজা পার হয়ে যেতো হতো ভেতরে  
সবাই পারে না যেতে। 
বাইরের মানুষের জন্য দহলিজ ঘর
বাইরের বারান্দা। সেখানে আলাপ, 
মাদুর পেতে সতরঞ্চি খেলা,
নতুন আলু দিয়ে রান্না রুই মাছের ঝোল দিয়ে ধোঁয়া ওঠা গরম ভাত, 
খাওয়া দাওয়া, আলাপ-বিলাপ—
রাত্রি যাপন।  
তারপর সেখান থেকে বিদায়।  

তোমার একটা কথায় কেঁপে  যায় সারা অন্দরমহল। 
পোড়া উঠোন, মৃতপ্রায় পাটকাঠির পুঁইশাকের মাচান, 
ধূলো পড়া রান্নাঘর,
পুকুর ঘাট, পুকুর পাড়ে কাঁঠাল গাছ—
রঙিন হয়ে ওঠে রংচটা জগত, 
পাখি এসে বসে গাছে, শিস দেয়। 
সারা মন হেসে ওঠে 
গুন গুন করে গায় প্রিয় কোনো গান 
চোখের কোণায় তারার আলো নাচে চিকমিক। 

সেই অন্দরমহলের কথা কেউ জানে না। 
কেউ পায় না টের। 
এটা যেনো ছোটবেলার পুতুল খেলার বাক্সের মতো,
খুব যত্নে তুলে রাখা। 
লুকানো, সবার চোখের আড়াল করে রাখা। 
ঘরের ভেতর ঘর। কতোগুলো চৌকাঠ পার হয়ে
তার ভেতরে আরেকটা ঘর। 
হঠাৎ ভরে ওঠে সেই ঘর অফুরন্ত আলো ও আনন্দে।

ঋভু চট্টোপাধ্যায়ের তিনটি কবিতা

ঋভু চট্টোপাধ্যায়ের তিনটি কবিতা --

কবিতা১
নিহত রোদের সাথে             

 
সবাই জানে রক্তপাতের কোন ব্যাকরণ হয় না,

প্রতিটা পাথরের গায়ে লেগে থাকা ফ্রয়েডীয়

অ্যাসিড স্রোত কখনও শুধুমাত্র একটা চোখের জন্ম দেয়।

আস্তে আস্তে ধাওয়া করে নিরীহ দাম্পত্য,

একটা শরীরের চারশত ক্ষতের ভিতর লুকিয়ে

থাকা ঘরবাড়ি ভেঙে পড়বার হাহাকারেও

কেউ কেউ অন্ধ সাজে। সব জেনে ধৃতরাষ্ট্র হবার মাঝে

একটা গাণিতিক সুবিধা থাকে।

যেমন থাকে তেলের দামের সিঁড়ি অথবা

গুজবের প্রেমপত্র। এখন চুপ বলে শুধু

ডুব ছাড়া নিরুপায় সঙ্গমহীন রাত।

তবুও কোণে কোণে ভয়ের ধারপাত,

আমাদের কি কোন ছায়া থাকবে না?

 

কবিতা ২
যে দাগ জোর করে মোছা

সেদিনও মুছে দেওয়া হল কোল থেকে মৃতদেহ

ও পুড়ে যাওয়া, তারপর মুখ বন্ধ করে পেঁচা সঙ্গী জীবন।

এই যে অনন্ত উপত্যকা আকাশের কোণ ঘেঁষে

মেহগনি উথ্থান, তার পেছনে কত রক্তছাপ চাপা

পড়ে, কে দেখবে সেই ছাপোষা যন্ত্রণা?

মুখে তোলা ভাত বা রক্ত তেঁতো নাকি

রাখা আছে কোন রাজরঙে 

আকাশের সময়ের ঘরে এখন কোষ্ঠকাল।

বীজমন্ত্রে বিষমাখা, বিকাল ছায়া রঙের পোষ্টকার্ড লেখে।

এর মাঝেই উপেক্ষার ইটের পাশে আশা মেখে অপেক্ষা।

জানা গেল একদিন ভোজবাজির আগে সব মুছে গেলেও

পোড়া দাগ রাখা থাকবে শরীর ক্যানভাসে।

কবিতা ৩

 যেভাবে আমি গন্ধ          

 এই যে শুয়ে থাকার ভাঁজে ভাঁজে শ্যাওলা

উপত্যকা, তার থেকে সব কিছু আলাদা

সরিয়ে রাখবার কি কোন সমীকরণ থাকে?

জানা যাচ্ছে মুখ বন্ধ করে পাগলামি দেখার ভেতর

যে শিল্পবোধ তাকে মুছে দেবার কোন রহস্যময়

হাত নেই, উৎপাটনের একটা বাস্তব বুদ্ধি থাকে,

না হলে চাপা দিয়ে গরুখেলা বা ছড়ানো  

ফসলেও লেগে থাকবে শুধু আমি গন্ধ।

 

দর্পণা গঙ্গোপাধ্যায়ের গুচ্ছ কবিতা --

দর্পণা গঙ্গোপাধ্যায়ের গুচ্ছ কবিতা -- চেনা চেনা চেনা মুখ আসে কালো মেঘের গায় অচেনা মানুষের ভিড়ে হারিয়ে খুঁজি তায় স্বার্থপরতা ব...