Thursday, 7 July 2022

চঞ্চল সেখের দুটি কবিতা

চঞ্চল সেখের দুটি কবিতা --

১ ওরা করা

কত সুখ কত দুঃখ কষ্ট বেদনার আর্তনাত অবিরল হৃদয়ে তাদের,
ওরা কারা?
যারা জীবিকার জন্যে বাইরে থাকে(কেরালা মুম্বায় দিল্লি ও অন্নান্য দেশ বিদেশে),,জন্মভূমি ছেড়ে৷
এখানে শুধু কেরালার কথাটায় বলি,
এটা কবিতা নয়! বিরহের  অক্লান্ত শ্রম প্রয়াসের অশ্রুভাষা,,,,
দরিদ্র সভাবী নয় অভাবী শ্রমিক শ্রেনীর কথা,
ওরা কারা?
এরা বাইরে যখন আসে ,মায়ের চোখ ভেজা কান্না,
পিতার বুকফাটা বেদনা,,তার উপর কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা, 
 বিরহিণীর বুকভরা বুবাকান্না বউটার দিকে চোখ রাখা যায়না,
মায়ের কোলে ছেলেটি আঙুল চেপে ধরে ,
,,আঙুলটা ছারিয়ে চেপে ধরি ছোট টিকিট লম্বা রেলগাড়িটার ডাণ্ডি৷
ওরা কারা?
তিনদিনের রাস্তা চালু টিকিটের লাইন বড় লম্বা ভিড়ে ঠেলাঠেলি পটল মূলোর ঝাকা সম,
রেজাভভিষান মেলে কখনও দুঃসাধ্যে৷
ওরা কারা?
তারপর তিনদিন পর পৌছায় কেরালায়,
শুখনো ম্লান মুখ তার উপর কাজ জুটবেকি তার দুঃচিন্তায় মগ্ন, মনে ইশ্বরের আরাধোনা ,
এসেছি ভবিশ্য উদ্দেশ্য নিয়ে অথবা ৠনের বোঝা মাথায় নিয়ে৷
ওরা কারা?
আগেরমত কাজের বাজার ভাল নয়,(ডালের থেকে বাঁদর বেশি হলে যা হয়)মুজুরি যা হয় হোক অল্প মালিয়াম শব্দে  বস পানি উণ্ডো(কাজ আছে)৷
ওরা কারা?
তার পর হাড় ভাঙা অকান্ত প্ররীশ্রম যতদিন থাকবে,
তাও আবার কাজ হলে হয়৷
ওরা কারা?
'বাংলার মা মাটি মানুষ ,মমতা তুমি কতটা জান এদের কথা,এদের হৃদয়ের ব্যথা,দরিদ্রের ক্ষুধা জালা৷
ওরা কারা?
বাংলার জননী তুমি খবর রেখছ সরকারী কর্মীদের ,
বেতন বারালে পূজোয় দিচ্ছ বোনান মাস গেলেয় মায়নি,
হিংসে নেই তাতে,যত দুঃখ গরীব চাষী অভাবি মানুষের৷
ওরা কারা?
কলকাতাকে আধুনিক উন্নত শহর বানানোর  প্রতীশ্রুতির ভাষন দিচ্চ সমীরন বার্তায়,
 বেকার যাযাবরেরমত জীবন খবর কে নেবে ৷
ওরা কারা?
 তাদের হৃদয়ের বিরহ বার্তা কে করিবে নিবেদন
ওগো বঙ্গবাসি শ্রেষ্ঠ কবিতা আবৃত্ত কারীরা ,
যেমন 
ব্রততী, বিশাখা,মৌসুমি,মলয়  পৌচ্ছেদাও তোমাদের শুললীত কষ্ঠে আবৃত্তের কোন বৈশাখী অধিবেশনে৷ 
বাইরে থাকা অভাবি শ্রমজীবিদের পাশে এসে কে দাঁড়াবে, সেই বাউল কে গাবে বঙ্গের মঞ্চে মঞ্চে৷ এরা কারা?
এদের মধ্যে আমিও এক অসহায় পথিক৷ 
ওরা কারা?
ওরা কারা?.....


২ শুধু কবিতার জন্য ঋণী 

কবিতার জন্য পৃথিবীর কাছে বড় ঋণী
বাস্তবের বাস্তবায়ন যা শিখিয়েছে সেটা বড় কঠিন৷
ভেবে ছিলাম কিছু কবিতার জন্ম দেবো এবার সংসারের গণ্ডি পেরিয়ে ,

কিন্তু সে সংসার পথের পাঁচালি হতে সময় লাগবেনা সেটাও আমি জানি৷
এই বিশাল পৃথিবীকে জানার ইচ্ছা ছিল
সময় হয়ে ওঠেনি
কিছু কবিতা পূর্ণতা পেলনা 
 সংসার সংবিধান মাঝে মধ্যে ভয় দেখালেও 
স্বপ্নটাকে কেড়ে নেয়নি ৷
গৃহে মোর প্রত্যহ মহোৎসব শুরু হয় ছোট্ট ছেলে মেয়েদের কলতানে ৷
যা শিশুদের  নবজাত নবকল্লোলে সৃষ্টি হয় অনবদ্য কবিতা৷
যা বাস্তবের সস্তা হাটে অমূল্য
শুধু কবিতার জন্য আমি এদের কাছে বড় ঋণী

অস্থিরতা-- শর্মিষ্ঠা ঘোষ

অস্থিরতা-- 
শর্মিষ্ঠা ঘোষ

মেঘলা চোখ হতে
মল্লার রাগে গাল বেয়ে 
তিস্তার কলরোল 
ছন্দমর্মর
বৃক্ষ জুড়ে কাতর মায়া
               হে ঈশ্বর 
ছৈ সৃষ্টি সানাই মৃত্যু 
শূন্য মিনার স্বপ্ন কিনার
লন্ডভন্ড রাত
মোহের মলাট
পৃষ্ঠা পৃষ্ঠা পেনসিল 
হিজল টানে হিজিবিজি 
            পিঠোপিঠি তুমি 
লক্ষ স্ফটিক স্বপ্ন 
প্রপাতে প্রপঞ্চ 
লাবণ্যধার 
অস্থিরতা... 

***শর্মিষ্ঠা ঘোষ
উঃ২৪ পরগণা 
7003116975

পরিচিতি : জন্ম কলকাতায়। বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনা ও লেখালেখি শখ। কবিতা প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন সাময়িক পত্রিকায়। দৈনন্দিন জীবনের যন্ত্রণা, প্রেম, পাল্টে যাওয়া রঙ লাগে কবিতায়।

পরম্পরা--নারায়ণ রায়

পরম্পরা--
নারায়ণ রায়

ছোট্টবেলায় পাড়ার নীরেনদার দোকানে
বোয়েম ভর্তি সাজানো লেবু লজেন্স।
পরাধীন মনটা চাইতো, কিনি আর খাই,
বাবা বলতেন, ওগুলো খেলে পেট খারাপ হয়।
মনে মনে ভাবতাম, যখন স্বাধীন হ'ব
তখন দু'পকেট ভরে কিনবো আর খাবো,
তখন তো জানতাম না যে, 
স্বাধীন আমি কোনদিনই হ'ব না।
আমার বাবাও কোনদিন স্বাধীন ছিলেন না,
তার বাবাও ছিলেন না।

কলেজে পড়ার সময়ে বন্ধুরা বলতো
চল দিলখুসের কাটলেট খাবো,
মুখে বলতুম ক্ষিধে নেই,
আর মনে মনে ভাবতুম, যখন ক্ষিধে পাবে,
তখন দুপ্লেট ভর্তি কাটলেট 
আর কবিরাজি খাবো।
তখন তো জানতাম না যে,
ক্ষিধে আমার কোনদিনই পাবে না।
এখন মনে পড়ে, আমার বাবারও
কোনদিন ক্ষিধে পেত না,
তার বাবারও ক্ষিধে পেত না।

সঞ্চালি বলত, তোকে আমার খুব ভালো লাগে,
আমি  বলতাম, আমার ভালো লাগে না।
মনে মনে ভাবতাম যখন আমার খুব প্রেম পাবে,
তখন তোকে আমি খুব, খুব করে ভালবাসবো,
তখন তো জানতাম না যে, 
আমার কোনদিনই প্রেম পাবে না।
আমার বাবা-মাকে কোনদিন 
পাশাপাশি বসে গল্প করতেও দেখিনি,
তাদের বাবা-মা'দেরও 
নিশ্চই কোনদিন প্রেম পেত না!

বিয়ের পর বৌকে বললাম, পুজোর ক'দিন
নাইবা ঠাকুর দেখলে! বরং ওই কদিন
কাজ করলে কিছু টাকা পাবো,
তোমার একটা শাড়ি হবে।
ঠাকুর না হয় পরের বছর দেখবো।
তখন তো জানতাম না যে,
ঠাকুর আমার কোনদিনই দেখা হবে না!
আমার বাবা-মাও কোনদিন 
ঠাকুর দেখতে বেরোয় নি,
তাদের বাবা-মাও
কোনদিন ঠাকুর দেখে নি।

ছেলে বললো, বাবা ইলিশ মাছ খাবো,
আমি বললাম, দুর বোকা ইলিশ খেলে
পেটের ব্যমো হয়।
তার চেয়ে বরং চল, আজ রাতে আমরা
বেগুন পোড়া দিয়ে মুড়ি খাই।
মনে পড়ে বাবা বলতেন, 
কারখানার লক আউটটা উঠলেই 
একটা মাছের মুড়ো কিনবো,
মাছের মুড়ো দিয়ে, পুইশাক খাবো।
বাবার আর কোনদিনই মুড়ো দিয়ে
পুইশাক খাওয়া হয়নি,
তার বাবারও নিশ্চই খাওয়া হয়নি।

অথচ বংশের পরম্পরা তো মানতেই হবে,
আজ যখন আমি অসুস্থ হয়ে প'ড়লাম;
জ্ঞান হয়ে দেখি, শুয়ে আছি
হাসপাতালের দোতলার তিন নং বেডে,
কি আশ্চর্য্য আমার বাবাও ছিলেন 
এই হাসপাতালের এই একই বেডে,
আর সেদিনও ছিল আজকের মতই 
পাশের পর্নমোচী গাছটা পত্রহীন।
বাবা আর বাড়ি ফিরে যাননি,
শুনেছি তার বাবাও এই হাসপাতালের 
এই বেডেই........।
তবে কি আমিও..........?

অনিন্দ্য পালের দুটি কবিতা

অনিন্দ্য পালের দুটি কবিতা --

ফুলের সঙ্গে একান্তে 
=========================== 
জানালার ঠিক সামনেই কাঞ্চন ফুলের গাছে 
আগুনের মত ফুটে আছে ফুল 
ওরা আমায় চেনে না আমাদের পরিচয় হয়নি কখনও 
যদিও একে অন্যকে দেখেছি অনেক বার 
যদিও একটা লম্বা আলোর তলোয়ার পাতা আর ফুলের ফাঁক দিয়ে ঠিক এসে পড়ে আমার চিবুকে 
আমরা কেউ কাউকে আদর করিনি কখনও... 

আগুনের রং লাল আর লাল আমার ভালো লাগে 
ফুলের রং আগুন, আগুন আমার ভালো লাগে
 
একা যখনি তাকিয়ে থাকি লালকাঞ্চন ফুলের দিকে  
জ্বলতে জ্বলতে ফুরিয়ে আসে আগুন উড়ে আসে 
ছাই ঢাকা পড়ে যায় স্মৃতিময় সৌধের বাগান 
শুধু লেগে থাকে রেশম পাতার রং... 
 
আমি আবার আগুন চেয়ে থাকি 
ফুল চেয়ে থাকি 
আমার জানালার পাশে একা দাঁড়িয়ে আছে 
আমার একলা সময়ের আগুন।

২ চলে গেলি সাধন
======================= 
চলে যায় সবাই, যেতে হয় কখনো না কখনো 
সময়ের সীমা সবাইকে যেতে হয় পার হয়ে 
তাই বলে মাত্র চুয়াল্লিশে? 
যে বয়সে 'বাবা' হল অন্য এক বন্ধু আমার 
যে বয়সে 'চাকরি' পেল আরও কত বন্ধুরা
অথচ তুই চলে গেলি সেই সকালেই? 
এত কী তাড়া ছিল? ছিল কত সময়-সংক্ষেপ? 
চলে গেলি দুপুর গড়াবার আগেই ... 

জানি এসব প্রশ্নের কোন উত্তর পাব না কখনও 
এসব প্রশ্নের উত্তর হয়ও না হয়ত, তবু 
বন্ধুতা আইন মানে না, 
মানতে চায় না দিনের আলোর মত স্বচ্ছ সত্যিটাও, 

তোর ছবির উপর চেপে বসা মালার ফুল গুলো 
দুর্গন্ধময় ফাঁসির দড়ি 
বিষধর সাপের মত জড়িয়ে থাকা ওই সব পুষ্পচিহ্ন 
অসহ্য শত্রুর মত মনে হয় 
ভুলে যাই, ওরাও চলে গেছে তোর মত অদৃশ্য গন্তব্যে 
এবং ছিঁড়ে আর ছুঁড়ে ফেলতে চাই সব লৌকিকতা 
স্মৃতিমেদুরতা, 
কিন্তু চোখ পড়ে তোর মুখের উপর, চোখের উপর 
খেলা করে যায় দুষ্টামি, সেই স্কুলবেলার মত 
রক্ত জল হয়ে আসে, 
মেরুদণ্ড ঝুঁকে পড়ে ধ্বস্ত গাছের মত 
চারদিকে দিনের আলোর রং হয়ে ওঠে ঘন কালো 
আর সেই অন্ধকার থেকে হঠাৎ বেরিয়ে আসিস তুই 
সাইকেল থামিয়ে হেসে বলিস, 
"চল, পিছনে বোস, দেরি হয়ে গেল তো! 
স্যার পড়ানো শুরু করে দেবে এবার ...
[30/06, 9:40 PM] Tapas: আমার পরিচিতি // অনিন্দ্য পাল 
======================
জন্ম ১৯৭৮ সালে। বাস দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার চম্পাহাটি তে। পদার্থবিদ্যায় সাম্মানিক স্নাতক, বি এড। পেশায় হাইস্কুলের শিক্ষক। লেখা লেখি শুরু কলেজের দিনগুলোয় যদিও প্রকাশ অনেক পরে। দেশ,  কৃত্তিবাস, আনন্দমেলা, প্রসাদ, কবিতাপাক্ষিক, কিশোর জ্ঞান বিজ্ঞান, বিজ্ঞানভাষ, তথ্যকেন্দ্র,  নিউজ বাংলা, উৎসব, অপদার্থের আদ্যক্ষর, শ্রমণ, রা, কল্পবিশ্ব, অনুবাদ পত্রিকা, প্রভৃতি অনেক পত্রপত্রিকায় লেখা প্রকাশিত হয়েছে। 
"সুখবর" পত্রিকায় শতাধিক বিজ্ঞান ও অন্যান্য বিষয়ে প্রবন্ধ নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। 
"তোর মত হলে অন্ধকারকেও ভালোবাসি", "জলরঙের ওড়না " ও "সমুদ্রে রেখেছি সময়" ও " আমি এসেছিলাম " নামে চারটি কাব্যগ্রন্থ আছে। 
"ছোট্ট সবুজ মানুষ" প্রকাশিত প্রথম বিজ্ঞান প্রবন্ধের বই।  
সাপলুডো নামে একটা পত্রিকার সম্পাদনা করেন।
ঠিকানা*
======
অনিন্দ্য পাল 
প্রজত্নে -- বিশ্বনাথ পাল 
গ্রাম -- জাফরপুর 
পোঃ-- চম্পাহাটিি 
পিন - ৭৪৩৩৩০
থানা -- সোনারপুর 
জেলা -- দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা 
পশ্চিমবঙ্গ, ভারত 
Mob: 9163812351
mail-- biltupal2009@gmail.com

চাঁদ-চরিত--কৌস্তুভ দে সরকার

চাঁদ-চরিত--
কৌস্তুভ দে সরকার

দক্ষিণের মতো এখনো উত্তরবঙ্গের চাঁদ 
অতটা সাহসী হয়ে উঠতে পারেনি
ছবিতে
কবিতাতে
চিন্তা-চেতনায়

এখনো চাঁদের বুক ওড়নায় ঢাকা
মুখে সুশ্রী কারুকাজ
পাট পাট চাঁদের পোশাক
হাবভাবে বিখ্যাত হবার করুণ প্রবণতা
আর্তি
আর্তনাদ

কুয়াশার চাদর সরিয়ে
এখনো সুদিন ফেরেনি চাঁদের ভাগ্যাকাশে

সামান্য কিছু একাউন্ট খুলতে পেরেছে চাঁদ
কলকাতার দিকের কিছু ব্যাংকে
.

দুর্বাসার বর--রমা গুপ্ত

দুর্বাসার বর--
রমা গুপ্ত

এসেছে দুর্বাসা কুন্তিভোজ নগর
সেবা দাও বলে ডাকেন উচ্চস্বর।
মন্ত্রী শশব্যস্ত বার্তা দিলেন কুন্তিভোজে,
দুর্বাসা এসেছেন হেথা আশ্রয়ের খোঁজে।
রাজা হন চিন্তাগ্ৰস্ত কি হবে এবার,
এ মুনি সহজ নয় ক্রোধ যে দুর্বার।
সেবা ত্রুটি হলে পরে রক্ষা নাই আর,
অভিশাপে বিনাশ হবে
রাজ্যপাট তার।
রাজকার্য যা  ছিল ফেলে সমস্ত,
সত্বর এলেন রাজা হলেন ব্যস্ত।
হস্ত পদ ধুয়ে বললেন মুনিবর,
থাকতে চায় হেথা প্রায় এক বৎসর।
ইচ্ছামত করব কর্ম থাকব স্বাধীন,
দিও শুধু এক সেবক আমার অধীন।
সেবা হেতু যা কিছু বলবো যখন,
পাঠিয়ে দিও তা হয়ে সযতন।
ভোজরাজ ভীতত্রস্ত, কি হবে উপায়,
দিশেহারা হন রাজা, হন নিরুপায়।
হেনকালে কুন্তি এসে জানায় পিতারে,
চিন্তা করো না আমি সেবিব মুনিরে।
কুন্তিভোজ বলেন পুত্রি  জানো নাকো তারে,
ত্রুটিমাত্র হলে মুনি শাপিবে তোমারে।
কুন্তি বলেন পিতা শান্ত হোন এই ক্ষণে,
ত্রুটি না হবে সেবায় নিশ্চিত জানি মনে।
মুনি কাছে কুন্তি গিয়ে বলেন তখন,
আপনার সেবা আমি করব যতন।
মুনিকে নিয়ে কুন্তি এলেন একটি ঘরে,
সাজিয়ে দিলেন দ্রব্য নানা উপাচারে।
যত্ন করে পাতেন আসন, শয্যার বিছানা,
জল  ফল ভোজ্যদ্রব্য বসন কয়খানা।
তারপর করজোড়ে বিনতির সুরে,
বললেন কুন্তি তবে দুর্বাসা মুনিরে।
দ্বার বাইরে সদা আমি থাকবো উপবিষ্ট,
সেবা লাগি বলবেন যা থাকে অবশিষ্ট।
এইভাবে কুন্তি সদা করেন সেবাব্রত,
দুর্বাসাও পরীক্ষা ছলে করেন বিস্তর বিব্রত।
একে একে পরীক্ষায় জয় হলেন কুন্তি,
দুর্বাসারও মনে তাতে বড়ই প্রশান্তি।
এইভাবে সময়কালে বছর হলো পূর্ণ,
বিদায় নেবেন মুনি কুন্তি বিষন্ন।
কুন্তিকে স্নেহ সুরে বললেন মুনি,
তুমি হলে ভক্তিমতি সুশীলা রমণী।
তোমার সেবায় আমি হয়েছি যে প্রীত,
বর তুমি নাও চেয়ে দেবো  মনোমত।
করজোড়ে বলেন কুন্তি বর নাহি চাই,
সেবায় হয়েছেন সন্তুষ্ট খুশি আমি তাই।
ভোজ রাজ্যে চরণধূলি পড়েছে আপনার,
তাতেই রাজ্য কল্যাণ, এটাই বর আমার।
প্রসন্ন হয়ে মুনি বলেন কুন্তিরে,
এই একটি মন্ত্র নাও, দিলাম তোমারে।
যত্ন করে সারাজীবন রাখলে স্মরণ,
মন্ত্রবলে মনোবাঞ্ছা হবে যে পূরণ।
এই মন্ত্রবলে তুমি পছন্দ মতন,
যে দেবতারে করবে স্মরণ আসবে তখন।
মনে মনে চাও যদি তাঁর মত সন্তান শক্তিধর,
অমনি লভিবে তুমি সে সন্তান সত্বর।
এই বলে মুনি তবে নিলেন বিদায়,
রাজা প্রজা মন্ত্রী সবে পেলেন স্বস্তি তায়।
একদিন  ভোরে কুন্তি গিয়ে গঙ্গাস্নানে,
অর্ঘ্য দিয়ে পূজিলেন সূর্য নারায়ণে।
অকস্মাৎ স্মরণে এলো দুর্বাসার বর,
পরীক্ষা হেতু মন্ত্র উচ্চারণ করলেন সত্বর।
অমনি সন্মূখে এসে সূর্যনারায়ণ,
সমর্পিল হস্তেতে তাঁর কাঙ্খিত পুত্রধন।
ভয়ে বিস্ময়ে কুন্তি বলেন এ যে বিষম দায়,
আমি যে কুমারী দেব কি হবে উপায়।
লোকলজ্জা হেতু আমি নেবো না এ  দান,
আমি যে রাজকন্যা আমার  না রবে  মান।
ভুল বুঝে মন্ত্র পাঠের এ কি পরিণাম,
কলঙ্কিত হবে মোর পিতার সম্মান।
কুন্তি তুমি কুমারী! বিস্মিত সূর্য নারায়ণ,
তবে কেন করলে বাঞ্ছা পুত্রতপোধন!
হায়। এখন এ সন্তান ফিরাবো কেমনে,
কাঙ্খিত ধন ফিরালে দগ্ধিবে জীবনে।
একবার যদি কিছু করা হয় দান,
ফিরায়ে দিলে হয় দানীর অপমান।
আমার শক্তিতে সৃষ্ট এ বীর সন্তান,
আমারই কবচ কুন্ডল রক্ষিবে তার প্রাণ।
জানবে সে মহাবীর নাম হবে কর্ণ,
জগতে মহান হবে দান হবে ধর্ম।
এই বলে সূর্য নারায়ণ হলেন অন্তর্হিত,
একলা কুন্তি সন্তান কোলে দাঁড়িয়ে স্তম্ভিত।
কিংকর্তব্যবিমূঢ় কুন্তি ভাসছেন অশ্রুজলে,
মনস্থির  করে শেষে অশ্রু মোছেন আঁচলে।
গঙ্গার অদূরে দেখেন নলিনীর দল,
সেথা হতে কুন্তি পদ্ম তুলিলেন সকল।
তারপর ঝুরি মধ্যে পদ্মসকল বিছায়ে,
সন্তান রাখেন তাতে যতনে সাজায়ে।
অনেক আদর করে সাশ্রু নয়নে,
ভাসিয়ে দিলেন তারে অতি সযতনে।
ভুলের কলঙ্ক হতে এভাবে নিস্তার,
গোপনেই রইলো মনে সে ব্যাথার ভার।

***লেখিকা রমা গুপ্ত
জন্ম পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার দূর্গাপুর।
ছোটবেলা থেকে কবিতা, গল্প, আঁকা, গান, ধর্মীয় পুস্তক পড়ার ঝোঁক ছিল।
বরাবরই লেখার সঙ্গে যুক্ত।
লেখিকার রচিত তিনটি ধর্ম পুস্তক আছে। কবিতাও লেখেন অনেক দিন থেকে।বর্তমানে কোলকাতায় থাকেন।

ঠিকানা - তপোবন
বিজয়কৃষ্ণ পল্লী
বাস স্টপ কারবালা।
পোঃ - নরেন্দ্রপুর
দক্ষিণ ২৪ পরগণা
পিন নং- ৭০০১০৩

তোমায় আমি--আব্দুল জলিল

তোমায় আমি--
আব্দুল জলিল

আমি তোমায় দেখে ছিলাম গঙ্গা নদীর পাড়ে
তুমি তখন দাঁড়িয়ে ছিল অবগন্ঠন পরে।
কচুরিপানা ফুলের মতো তুমি
ভাসছো গঙ্গা নদীর'পরে
দেখলাম আমি ভেসে যাচ্ছ দূরে
যেতে যেতে স্পর্শ করে গেলে।

গঙ্গা নদী কোথায় চলে বয়ে
কচুরিপানায় জলের বিন্দু লেগে
আনমনে চেয়ে আছি শুধু 
তুমি কখন ফিরে চাইবে আমা পানে,
কচুরিপানা যেমন মিশে জলে
তেমন করে এসো হৃদয় মাঝে।

তোমায় চেয়ে চেয়ে দেখছি আমি তাই,
শিশির বিন্দুর মতো ঝরে না যায়।
তোমার অঙ্গে জলের বিন্দু পেতে 
আমি চাই তোমার মধ্যে মিশে যেতে
চাঁদ যেমন আকাশের বুকে মিশে।

তুমি রবে আমার তরে-----আমি না হয় ক্ষয়
কচুরিপানা ফুল শুধু নদীর ফুল নয়,
নদীর সৌন্দর্যও বাড়ায়
তোমার পরশে আমার জীবন হলো চঞ্চল;
অন্ধকার ঘনিয়ে এলো----
হারিয়ে গেল কচুরিপানা ফুল
বুঝিয়ে দিলে তোমার ভালোবাসা।

দর্পণা গঙ্গোপাধ্যায়ের গুচ্ছ কবিতা --

দর্পণা গঙ্গোপাধ্যায়ের গুচ্ছ কবিতা -- চেনা চেনা চেনা মুখ আসে কালো মেঘের গায় অচেনা মানুষের ভিড়ে হারিয়ে খুঁজি তায় স্বার্থপরতা ব...